img

বিজ্ঞাপন চিত্রের থিম সং (জিঙ্গেল) থেকে ঈদে ঘরেফেরা মানুষের ‘থিম সং’-এ পরিণত হয়েছে ‘স্বপ্ন যাবে বাড়ি’ গানটি। ২০০৯ সালে গ্রামীণফোনের একটি বিজ্ঞাপনের জন্য হাবিব ওয়াহিদের সুর ও সংগীতায়োজনে গানটিতে কণ্ঠ দেন শিল্পী মিলন মাহমুদ। এর সাত বছর পর ২০১৬ সালে গ্রামীণফোনের ‘স্বপ্ন যাবে বাড়ি ২’ বিজ্ঞাপনটি প্রকাশিত হয়। এবারও সুর ও সংগীতায়োজন করেন হাবিব ওয়াহিদ। রাসেল মাহমুদের লেখায় গানটিতে কণ্ঠ দেন মিঠুন চক্র। বিজ্ঞাপনটি প্রকাশের পর গানটি ব্যাপক আলোচনায় আসে, মানুষের মনে স্থান করে নেয়।

প্রতি বছরের মতো এবারের ঈদুল ফিতরেও সামাজিক মাধ্যমে ‘স্বপ্ন যাবে বাড়ি ২’ গানটি ব্যাপক চর্চায় এসেছে। গানটিতে যুক্ত হওয়া, বর্তমান কাজের ব্যস্ততাসহ নানা বিষয়ে যুগান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন মিউজিশিয়ান মিঠুন চক্র। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মাহমুদ শাকিল। 

যুগান্তর : বরাবরই ঈদের সময়ে ‘স্বপ্ন যাবে বাড়ি’ গানটা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক চর্চায় আসে। ঈদে ঘরফেরা মানুষের রীতিমতো ‘থিম সং’-এ পরিণত হয়েছে এটি। গানটির দ্বিতীয় সংস্করণ আপনার গাওয়া। বিষয়টা আপনার মন ছুঁয়ে যায় কিনা?

মিঠুন : আমি মনে করি, ‘স্বপ্ন যাবে বাড়ি’ আমার জন্য দ্বিতীয় জন্ম। যদিও অনেকেই জানে না যে, এই গানটি আসলে আমারই গাওয়া, এখনো জানে না। এটা আসলে আমার জন্য কোনো কষ্টের বিষয় না। আমি আগেও অন্যান্য ইন্টারভিউতে বলেছি যে, সন্তান যখন সবার পছন্দের হয়, অভিভাবকদের তো অবশ্যই ভালো লাগে। আমার আসলে কোনো ক্ষোভ নেই। এ নিয়ে টানা ১০ বছর এই গানটি সবার মনে ঠাঁই করে নিয়েছে। কোনো গান যখন মানুষের জীবনের বড় একটি অংশে পরিণত হয়, তখন আসলে একটা শিল্পীর আর কী পাওয়া থাকতে পারে! আমার তো মনে হয়, এটা প্রকৃতি থেকে পাওয়া আমার জন্য আজীবন একটি সম্মাননা। এটার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। পুরো বাংলাদেশের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।

যুগান্তর : ছোট করে এই গানে যুক্ত হওয়ার গল্পটা জানতে চাই।

মিঠুন : আমার আসলে এই গানটাতে গাওয়ার কথা ছিল না। শ্রদ্ধেয় সংগীত পরিচালক হাবিব ওয়াহিদ ভাই এই গানটিতে আমাকে যুক্ত করেন। এটা ওনারই চয়েস। পরে এটি কোম্পানিও পছন্দ করে, আর আজকে পুরো বাংলাদেশ। এভাবেই আমার ডামি ভয়েসটা একটু হলেও দামি হয়ে গেল।

যুগান্তর : সম্প্রতি একটা জিঙ্গেলেও কণ্ঠ দিয়েছেন আপনি। অভিজ্ঞতা কেমন ছিল? সামনে কি আরও জিঙ্গেলে কাজের ইচ্ছা আছে?

মিঠুন : আমি এ বছর বিকাশের দুটো জিঙ্গেলে ভয়েস দিয়েছি। তাছাড়া বিভিন্ন কোম্পানিতে টুকটাক গাওয়া হচ্ছেই, তো ভালোই লাগে। আসলে এরকম বাণিজ্যিক গানগুলো তো অনেক চ্যালেঞ্জিং হয়, করাটা এতো সহজ না। তবে হ্যা, আরও চমক আসছে। তার মধ্যে এই দুটো উল্লেখযোগ্য। কাজ করছি, আরও সামনে আসবে।

যুগান্তর : অনেকেরই কৌতূহল, আপনি আসলে কি কি ইনস্ট্রুমেন্ট বাজাতে পারেন?

মিঠুন : আমি মনে করি, আমার পুরো শরীরটাই আমার জন্য একটা ইনস্ট্রুমেন্ট। এই কথাটি আমি সবসময় আওড়াতেই থাকি, যতদিন বেঁচে থাকব সেটাই বলব। মিউজিক্যাল ইনস্ট্রুমেন্টের ক্ষেত্রে আমি সকল প্রকার বাদ্য বাজাতে পারি। অর্থাৎ ছন্দের সঙ্গে যুক্ত সব কিছু আমি বাজাতে চেষ্টা করি। এটা করতে গিয়ে আমার অর্ধেক জীবন চলে গেছে। ম্যালেটিক ইনস্ট্রুমেন্ট আমি খুবই কম পারি। তবে এটা আমার খুব পছন্দের এবং এটাতেও আমার আইডিয়া কাজ করতে থাকে। আসলে একটি যন্ত্রকে আঁকড়ে ধরে যখন আপনার জীবন কাটতে থাকবে, তখন পারিপার্শ্বিক সবকিছুই আপনার কাছে চলে আসবে। তাই নিজের জীবনকে যদি আপনি ভালোবাসেন, তখন প্রকৃতির সবকিছু আপনার হয়ে যাবে।

যুগান্তর : গায়ক হিসেবেও আপনার ভালো পরিচিতি আছে। সামনে গান নিয়ে কী পরিকল্পনা?

মিঠুন : এ বছর গান নিয়ে আসলেই এগিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা আছে। কারণ বাদ্য তো বাজাচ্ছিই এবং করেই যাচ্ছি। কিন্তু এ বাদ্য বাজনায় আমার সম্পৃক্ততা খুবই সীমিত, কারণ অনেক আগে থেকেই আমি বেছে বেছে কাজ করেছি। খুব কম মানুষের সঙ্গে আমি বাজিয়েছি। যত দিন যাচ্ছে আমি আমার মতো কাজ করছি। বাজনা তো বাজিয়েছি, এবার গান নিয়ে আমার অনেক প্ল্যান। ‘আর্ট অব চক্র’ আমারই গোছানো একটি প্রজেক্ট, যেখানে আমি গান করতেই থাকব। আর এই ঈদেই সিনেমায় আমার একটি গান আসছে। সিনেমার নাম এখনই বলতে চাচ্ছি না। গানটি প্রকাশ পেলে তখনই সবাই জানতে পারবেন। গান নিয়ে এগোনোর আশা আমি রাখি, তবে তার জন্য পুরো বাংলাদেশের দোয়া চাই।

যুগান্তর : বর্তমানে ব্যস্ততা কী নিয়ে?

মিঠুন : ব্যস্ততা অনেক কিছু নিয়েই। ড্রামার হিসেবে আমার বন্ধু ইমন চৌধুরীর সঙ্গে বাজাচ্ছি। ওর নিজস্ব একটি প্রজেক্ট আছে ‘বেঙ্গল সিম্ফনি’, সেখানে ওর আমন্ত্রণে আমিও যাই। সিনেমার কাজ আছে আর ‘কোক স্টুডিও বাংলা’ প্রজেক্টের সঙ্গেও অনেক কিছু চলছে। সামনে অনেক কিছু আসতে চলেছে। আশা রাখি- সবার খুবই ভালো লাগবে।

যুগান্তর : ঈদুল ফিতরে আপনার কোনো কাজ আসছে কিনা?

মিঠুন : আমার খুব স্বপ্ন সিনেমায় কিছু একটা করার। ঈদুল ফিতরে সিনেমায় হয়তো বা আমার একটি গান আসছে। সব ঠিকঠাক হলে খুব তাড়াতাড়ি কোন সিনেমায় সেটা রিভিল করব। সবাই পছন্দ করবেন আশা করি।

যুগান্তর : আপনার জন্য শুভকামনা।

মিঠুন : আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ। আপনাদের জন্যই আমি আছি আজকে, নাহলে আমি একজন ক্ষুদ্র বাদক। আমি সব সময় বলি, আমি জাস্ট একজন ঢোলওয়ালা। তেমন কিছু আমি পারিও না, মিউজিকটাও তেমন পারি সেটাও না। যতটুকু পারি আপনাদের ভালোবাসা দিয়ে বরাবরের মতো এভাবেই আমাকে উৎসাহ দিতে থাকবেন। অনেক শুভকামনা, ঈদ মোবারক।

এই বিভাগের আরও খবর